
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি, প্লট ও হোটেল দখল, মদের ব্যবসা, মেগা প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ এবং রাস্তা ও হোটেলে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টমটম লাইসেন্সে অনিয়মের অভিযোগ
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে টমটম বা ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।
মৎস্য প্রকল্প দখলের অভিযোগ
সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে মৎস্য প্রকল্প দখলের অভিযোগও রয়েছে। কীভাবে এ প্রকল্প দখল করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোনো অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে।
মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ
এ ছাড়া মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও করেছে দুদক। বিভিন্ন রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই অভিযোগও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসেছে।
ঘুষ ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ
দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা ও হোটেলে চাঁদাবাজির অভিযোগও করা হয়েছে।
জমি-হোটেল দখল ও সম্পদের অনুসন্ধান
মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি, প্লট ও হোটেল দখল এবং মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন কি না, তা প্রাথমিক অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখবে দুদক।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মুজিবুর রহমানের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।